এশিয়া ও ইউরোপে কমেছে এলএনজি আমদানি

এশিয়ার দেশগুলোয় এপ্রিলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি আগের তুলনায় কমেছে।

এশিয়ার দেশগুলোয় এপ্রিলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি আগের তুলনায় কমেছে। অন্যদিকে ইউরোপে শীত মৌসুমের চাহিদা কেটে যাওয়ায় জ্বালানি পণ্যটি আমদানিতে মৌসুমি মন্দার ইঙ্গিত দেখা গেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষক এ তথ্য জানিয়েছে।

কমোডিটি অ্যানালিস্ট প্রতিষ্ঠান কেপলারের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি আমদানিকারক অঞ্চল এশিয়ার এলএনজি আমদানির পরিমাণ এপ্রিলে হতে পারে ২ কোটি ২৪ লাখ টন। মার্চে এ পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার টন। গত বছরের এপ্রিলে এশিয়ার দেশগুলো ২ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছিল।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে আমদানি কমার পেছনে বড় কারণ চীনের আমদানি হ্রাস। কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, গত মাসে চীনের আমদানির পরিমাণ হতে পারে ৪৭ লাখ ৭০ হাজার টন। এটি ২০২৪ সালের এপ্রিলের ৬৫ লাখ টনের তুলনায় ২৭ শতাংশ কম।

দৈনিক হিসাবে ২০২২ সালের অক্টোবরের পর এপ্রিলে চীনের আমদানি সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে কার্গোগুলোর ঊর্ধ্বমুখী দাম। এছাড়া চীনের এলএনজির চাহিদা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ। গত দুই মাসে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো এলএনজি আমদানি করেনি। ২০২৪ সালে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ৪৩ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছিল, যা তাদের মোট চাহিদার প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চীন ছাড়া এশিয়ার বিকল্প দেশগুলোয় এলএনজি রফতানি বাড়িয়েছে। এপ্রিলে দেশটি মোট ১৪ লাখ ৮০ হাজার টন এলএনজি রফতানি করেছে, যা মার্চের ৭ লাখ ৩০ হাজার টনের তুলনায় দ্বিগুণ। এসব ক্রেতা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত।

ধারণা করা হচ্ছে, এ দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনার অংশ হিসেবে আরো বেশি মার্কিন জ্বালানি আমদানির প্রস্তাব দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র এপ্রিলে ইউরোপের দেশগুলোয় মোট ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টন এলএনজি সরবরাহ করেছে বলে কেপলার জানিয়েছে। এটি মার্চের রেকর্ড ৭০ লাখ ৪০ হাজার টনের তুলনায় কম।

আরও